Friday , April 23 2021
Home / জয়পুরহাট সদর / জমে উঠেছে জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা

জমে উঠেছে জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা

এস.ডি সাগর, জয়পুরহাট

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি। নির্বাচনকে ঘিরে চলছে মিটিং মিছিল ও পথসভা। তুলে ধরছেন নিজেদের অবস্থান।

আর এলাকার উন্নয়নে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি সাধারণ ভোটারদের। এদিকে অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, প্রথম শ্রেনীর জয়পুরহাট পৌরসভায় এবার ৫২ হাজার ২শ ৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটাররা ইভিএম এর মাধ্যমে দিবেন তাদের ভোট। নির্বাচনে মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ৫জন প্রার্থী।

এর মধ্যে মেয়র পদে নৌকা নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। একই পদে ধানের শীষ নিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শামছুল হক।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ মার্কায় দেওয়ান বেদারুল ইসলাম বেদিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী জগ মার্কায় হাসিবুল আলম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কায় দেওয়ান জহুরুল ইসলাম লড়ছেন। নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৭০ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৬ জন প্রার্থী।

নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মহল্লার অলি গলি আর পৌর শহরের প্রধান সড়কের পাশ এখন ছেয়ে গেছে পোষ্টারে পোষ্টারে। মিছিল আর গণসংযোগে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন কর্মী সমর্থকরা। চলছে মাইকিংও। পৌর এলাকার সর্বত্রই এখন ভোটের আমেজ বিরাজ করলেও ভোটারদের প্রত্যাশা অবাধ সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, গত ৪০ বছরে যে উন্নয়নমুলক কাজ হয়নি, আমি গত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় পর তা ৫ বছরেই চেষ্টা করেছি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়েছি। তাই এ উন্নয়ন দেখে সাধারণ মানুষ দলমত নির্বিশেষে আমাকে ভোট দিয়ে আবারও নির্বাচিত করবে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামছুল হক বলেন, আমি ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা ধানের শিষে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। আমি মনে করি সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করব।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ মার্কার দেওয়ান বেদারুল ইসলাম বেদিন বলেন, আমি জয়ী হতে পারি না পারি সেটা বড় কথা নয়। মানুষের ভোটাধিকার যেন তারা প্রয়োগ করতে পারে এটাই বড় কথা। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আর সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জয়পুরহাটের পুলিশ প্রশাসন সঠিক দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করছি। শুরু থেকেই ভোটারদের থেকে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে পৌর এলাকার সকল কবর, শ্মাশান, মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সড়ক সংস্কার করে উন্নত করব। এখানে কোন সরকারিভাবে বিনোদনমুলক পার্ক নেই। সেজন্য শরীর চর্চা ও বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মান করব।

তিনি আরও বলেন, পৌর এলাকায় বিনামুল্যে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল খোলার খুব ইচ্ছা আছে আমার। ওয়ার্ড হিউম্যানিটি কমিশনের আমি বাংলাদেশের এ্যাম্বাসেডর। নিউ ইয়র্ক হেড অফিসের প্রধানকে বিষয়টি বলেছি। আমি নির্বাচিত হতে পারলে তারা জাতিসংঘের একটি প্রকল্প আওতায় এখানে একটি হাসপাতাল করে দিবে বলে আশ্বস্ত করেছে। যেখানে সবাই বিনামুল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে।

এছাড়াও সন্ত্রাস ও মাদক থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার উদ্যোগসহ শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি এ পৌরসভায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভায় মোট ভোটকেন্দ্র ২২টি। ২৭ তারিখে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করা হবে।

এছাড়াও যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর ৪ স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ৯টি ওয়ার্ডে ৯জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

About Joypur Hat

Check Also

জয়পুরহাটে হুইপ স্বপনের সমন্বয় সভা

জয়পুরহাট থেকে মো. আতাউর রহমান : করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় এবং এর প্রাদুর্ভাব রোধে …