Sunday , October 25 2020
Home / জয়পুরহাট সদর / জনদুর্ভোগের আরেক নাম জয়পুরহাট-হিলি সড়ক

জনদুর্ভোগের আরেক নাম জয়পুরহাট-হিলি সড়ক

এস.ডি সাগর, জয়পুরহাট

জয়পুরহাট-হিলি মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও নতুন করে সড়ক নির্মাণের কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় ব্যাপক জনদুর্ভোগে পড়েছে লাখো মানুষ। খানাখন্দে ভরা এ সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হওয়ায় যাতায়াতে সময় লাগছে দিগুণেরও বেশি। আর এ কারণেই প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৬০ ভাগ। আর সড়ক বিভাগের তথ্য মতে কাজ হয়েছে প্রায় ৩৫ ভাগ। তবে সাধারণ মানুষের দাবি তাদের দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ করা হোক।

২০১৮ সালের ০১ এপ্রিল ৩টি প্যাকেজে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে লিংক সড়কসহ জয়পুরহাট-হিলি মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও নতুন করে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ জুনে।

সময় অনুযায়ী কাজ শেষ না হওয়ায় পরে পুনরায় আরো ৬ মাস কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ তুলে বালু-খোয়া ঢেলেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কে অধিকাংশ জায়গা খানাখন্দে পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্ষার মৌসুমের কারণে দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। একটু রোদ হলেও ওই সড়ক দিয়ে ধুলা বালির কারণে চোখ মুখ বন্ধ করে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। সম্প্রতি আবারও শুরু হয়েছে কাজ। তবে অবশিষ্ট আর দুই মাসে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে সংশয়।

জয়পুরহাটের পাশেই রয়েছে হিলি স্থলবন্দর। বন্দর থেকে এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারও মালবাহী ট্রাক রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। তাই এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব মালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া ৩০-৪০ মিনিটের রাস্তায় সময় লাগছে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিকল হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন। সড়কটি খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় অনেকে আবার বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।

এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার শামীর আহম্মেদ বলেন, সড়কে শতকরা ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে। মহামারি করোনার কারণে ও সড়কের দুপাশের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে এবং দুপাশের গাছ না কাটার কারণে এ কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি বাকী সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।

এ বিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার পর নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না করায় আরো ৬ মাসের সময় বেধে দেয়া হয়েছে। করোনার জন্য কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে বর্ষার কারণে কাজ ধীরগতিতে চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ে সড়কটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি।

 

About Joypur Hat

Check Also

জয়পুরহাটে অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ

শাহাদুল ইসলাম সাজু,জয়পুরহাট জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ৫০ অসহায় ও বেকার দরিদ্র নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *