Tuesday , October 20 2020
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
Home / সফলতার গল্প / মা-মেয়ের সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

মা-মেয়ের সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

‘পাপড়ি’স ড্রিম’– এর প্রতিষ্ঠাতা নিশাত তাসমিনের পরিবারে তার মা-ই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু তার মায়ের পক্ষে একা পুরো পরিবারের খরচ চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাই নিশাত তার মাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন যাতে তাদের পরিবার একটু ভালোভাবে চলতে পারে।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ২ বছর পর আমি লক্ষ্য করলাম যে অনেকেই ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে বাসায় রান্না করা খাবার বিক্রি করছে, যা আমার কাছে খুব সময়োপযোগী ও ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বলে মনে হয়েছিল। তাই ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে যারা বাসায় রান্না করা খাবার বিক্রি করছে আমি সেই পেজগুলো সার্চ করতাম এবং তাদের ব্যবসার ধরন বোঝার জন্য সেই পেজগুলোতে নিয়মিত ঢুঁ মারতাম। এসব করতে করতেই রান্নাঘর থেকে আয় করার পরিকল্পনাটি আমার মাথায় আসে।’- বলছিলেন নিশাত।

অনেক চিন্তাভাবনা করে অবশেষে ২০১৮ সালে নিশাত তার মায়ের রান্না করা খাবারের ছবি দিয়ে একটি ফেইসবুক পেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি খাবারের ছবিগুলো ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও শেয়ার করেন।

এর কিছুদিন পরেই নিশাত তার প্রথম অর্ডারটি পান। প্রথম অর্ডারটি ছিল চিকেন রোস্টের, যেটি তার মায়ের হাতের রান্না করা প্রিয় খাবার।

এই তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, ‘প্রথম অর্ডারটি পাওয়ার পর আমি আমার মাকে ফেইসবুক পেজটি সম্পর্কে বলি।

প্রথমে তিনি অবাক হন এবং একই সাথে বেশ খুশিও হন। তিনি যেহেতু বাড়ির বাইরে ছিলেন তাই তিনি আমাকে চিকেন রোস্ট রান্না করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে যেতে বলেন। আমি তার কথামতো সবকিছু কিনে আনি এবং মা কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সাথে সাথে রোস্ট রান্না করলেন। এভাবেই আমরা প্রথম অর্ডারটি আমাদের গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম।’

এরপর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে। এখন যে কয়েকটি স্বনামধন্য বাংলা খাবারের পেজ আছে সেগুলোর মধ্যে ‘পাপড়ি’স ড্রিম’ অন্যতম।

নিশাতের মা এখন চাকরি ছেড়ে তার পুরো সময় মেয়ের ব্যবসায় দিচ্ছেন। তারা যৌথভাবে পুরো ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা, অর্ডার নেয়া ও খাবার তৈরি করতে কাজ করছেন।

পাপড়ি’স ড্রিম –এ চিকেন রোস্ট, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দেশি ভর্তা পাওয়া যায়। তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশেষ খাবার হলো ‘খুদের ভাত ভর্তা’।

২০১৯ সালে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে সবচেয়ে বেশি খাবার বিক্রি করার জন্য নিশাত ‘হোমশেফ’ আয়োজিত ‘সেরা তরুণ উদ্যোক্তা’ পুরস্কারও পেয়েছেন।

নিশাত বলেন, ‘আমার মা এবং আমি অনেক অর্থকষ্টের সম্মুখীন হয়েছি। আমরা কৃতজ্ঞ যে আমরা সেই দুঃসময় কাটিয়ে উঠেছি। ’

যেহেতু তাদের অর্ডার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই নিশাত ও তার মা তাদের ব্যবসা আরও বড় পরিসরে শুরু করতে চান। এজন্য প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে তারা লোক নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

About Joypur Hat

Check Also

জয়পুরহাটের পরিশ্রমী যুবক রাবুর সাফল্যের ইতিকথা!

জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার যুবক রাবু হোসেন।২০০৮ সালে পাঁচবিবি এলবিপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং …